![]() |
| শ্রী কৃষ্ণের শিশুপালের বিনাশ |
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শিশুপালের বিনাশ করেছিলেন কারণ শিশুপাল বারবার সীমা অতিক্রম করে অন্যায় ও অপমানজনক আচরণ করেছিল। পুরাণ মতে, শিশুপাল ছিল চেদিরাজ্যের রাজা এবং শ্রীকৃষ্ণের মামাতো ভাই। তবে তার চরিত্র ছিল অত্যন্ত উদ্ধত এবং অহংকারী।
শিশুপালের জন্ম ও ভবিষ্যদ্বাণী:
শিশুপালের জন্মের সময় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে, সে শতাধিক অপমানমূলক আচরণ করবে এবং সেই কারণে তার মৃত্যু ঘটবে একজন নিকটাত্মীয়ের হাতে। শিশুপালের মা শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন যেন তার শত অপরাধ ক্ষমা করা হয়। শ্রীকৃষ্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে শিশুপাল ১০০টি অপরাধ করলে তিনি ক্ষমা করবেন, তবে ১০১তম অপরাধে তাকে শাস্তি দেবেন।
শিশুপালের অপরাধ:
শিশুপাল বারবার শ্রীকৃষ্ণ ও অন্যান্য ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননা করত। রাজসূয় যজ্ঞে উপস্থিত হলে শিশুপাল প্রকাশ্যে শ্রীকৃষ্ণকে অপমান করে এবং তাঁর ভক্তদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে। এই অপমান সহ্য করে শ্রীকৃষ্ণ গণনা করতে থাকেন এবং যখন শিশুপাল ১০১ বার অপমান করে, তখন শ্রীকৃষ্ণ আর ধৈর্য ধরেন না।
বিনাশ:
শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সুদর্শন চক্র ব্যবহার করে শিশুপালের শিরশ্ছেদ করেন এবং তাকে ধ্বংস করেন। শিশুপালের মৃত্যুর পর তার আত্মা মুক্তি লাভ করে এবং সে শ্রীকৃষ্ণের চরণে লীন হয়, কারণ শিশুপাল ছিল ভগবান বিষ্ণুর এক পূর্বজন্মের দ্বারপাল, যাদের শাপ ভোগ করতে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল।
পাঠ:
শ্রীকৃষ্ণের শিশুপালকে বিনাশ করার কাহিনী থেকে বোঝা যায় যে, অধর্ম, অহংকার এবং ন্যায়নীতি বিরোধী কার্যকলাপের অবশেষে বিনাশ অনিবার্য। ভক্তি এবং দয়াশীলতা দেখানো হলেও অন্যায় সীমা ছাড়িয়ে গেলে শাস্তি অবশ্যম্ভাবী।

No comments:
Post a Comment